হসপিটালের সবকিছু সাদা সাদা হয় কেনো?
আমার স্পষ্ট মনে আছে, প্রথম যেবার আমার ডেংগু হলো দেশে, বেশ অনেকদিন হসপিটালে থাকতে হয়েছিলো, তখনই প্রথম এই প্রশ্নটা মাথায় এসেছিলো। এইবার ডক যখন আমার ব্যথায় কাতর চেহারার দিকে তাকিয়ে দুঃখী দুঃখী চেহারায় বললো, "আ'ম এক্সট্রীমলি স্যরি"; তখন তুই চলে গিয়েছিস এই দুঃখ অনুভব করার পরিবর্তে আমি হঠাৎ করেই ভাবছিলাম, হসপিটালের সবকিছুর মত ডাক্তার আর নার্সরাও সাদা সাদা ড্রেস পড়ে কেনো? ব্যপারটা একটু বিভ্রান্তিকর। কারণ মানুষের কল্পনায় এঞ্জেলরাও সাদা সাদা হয়। ধর্, কোনো মানুষ হসপিটালে এসে মরে গেলো। তারপর মরার পর যখন ফেরেশতারা তার কাছে আসবে, তখন তো সে বিভ্রান্ত হয়ে যেতে পারে! তারকাছে মনে হবে সে তখনো হসপিটালেই আছে!
তুই কী এইসব আজগুবি চিন্তা শুনে হাসছিস? হিহিহি, তুই কী হাসবি, আমি নিজেই হাসছি। তবে সাবধান, অন্য কাউকে বলিস না, মানুষ আমাদেরকে পাগল ভাববে! দেখ, সাত সপ্তাহেই তোর সাথে আমার কেমন দারুন বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল, যা কাউকে বলিনা, তাই কী অকপটে তোকে বলে যাচ্ছি। হাতে গুনে হিসাব করলে সাত সপ্তাহ বেশীদিন না। কিন্তু আমার কাছে দেখ মনে হচ্ছে যেনো কত্তদিন! উফ, তুই আমাকে ব্যথায় পাগল বানিয়ে ফেলেছিলি প্রায়। ব্যথার চেয়ে বড় যন্ত্রনা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো তোর বাবা, চা খেতে দিবেনা, একটু জোড়ে হাঁটতে দিবেনা, কিছুই আলগাতে দিবেনা। পুরা থানার দারোগা একটা! মাঝে মাঝে অবশ্য মজা পেতাম। তুই কি পেটের ভিতর আমার মজা টের পেতি?
মাত্র ক'দিনের তুই অদ্ভূতভাবে বদলে দিয়েছিলি তোর বাবাকে। যে কিনা নিজের প্যান্টটা পর্যন্ত মাটি থেকে তুলে রাখেনা আলসী করে, সেই কিনা ভোরে উঠে নাস্তা বানায়, অফিসে যায়, সেখান থেকে পড়তে যায়, পড়া থেকে ফিরে আসার সময় সব বাজার করে আনে, রাতে রান্না করে ঘর দোরের সব কাজ শেষ করে ঘুমুতে যায়। উইকেন্ডে যাকে আমি ঠেলেও বিছানা থেকে নামাতে পারিনা, সারাদিন বিছানায় গড়াগড়ি খায়, সেই-ই কিনা আমার আগে ঘুম থেকে উঠে সব কাপড় ধোঁয়, শুকাতে দেয়, ঘর ক্লিন করে। তুই কি জানতিস এই একটুশ খানি তুই কেমন বদলে দিচ্ছিলি শুধু আমাদেরকেই না, আশেপাশের সবাইকে। চাঁদ ভাবীর মা এসেছে দেশ থেকে। সেই তিনি পর্যন্ত তোর জন্য শাড়ি ছিঁড়ে কাঁথা বানানোর জন্য চাঁদ ভাবীর সাথে ঝগড়া লাগিয়ে দিলেন। ভাবীর সেকি চিল্লাচিল্লি, দেশ থেকে এত কষ্ট করে এক একটা শাড়ি আনাইছি, তুমি আছো সেই শাড়ী কেটে কাঁথা বানাইতে? সাবধান যদি আমার শাড়িতে হাত দিছো!
তুই ঐ ঝগড়া দেখলে শিউর হাসতে হাসতে শেষ হয়ে যেতি, আন্টির চেহারা যদি দেখতি! শেষে ওনাকে অনেক কষ্টে বুঝানো হয়েছিলো এখানে কাঁথার দরকার নাই, বাচ্চাদের জন্য নরম নরম কাভার পাওয়া যায়। তারপরও উনি জিদ ধরে বসেছিলেন, দেশে ফিরেই কাঁথা বানিয়ে পাঠাবেন, একটা নতুন বাচ্চা আসবে আর কাঁথা থাকবেনা এটা কী ধরনের কথা?! তোর জন্য দুঃখ লাগছে, পৃথিবীতে এসে নকশীফুল তোলা কাঁথার ওম পোহানোর আগেই চলে গেলি! প্রথম যখন বুঝেছি তুই চলে যাচ্ছিস, হাউ মাউ করে কেঁদেছি একদম। মেয়েদের অনেক সুবিধা আছে, ইচ্ছামত কাঁদতে পারে, কেউ কিছু বলেনা! তোর বাবা, চাঁদ ভাবী, চাঁদ ভাবীর মা কেউই আমাকে সামলাতে পারছিলোনা। তুই-ই বল, পুরো সাত সপ্তাহ তোর জন্য এত কষ্ট করলাম, সেই তুই এইভাবে চলে গেলে না কেঁদে থাকতে পারি?
এই সাত সপ্তাহ'র কিছু কাহিনী শোনাই তোকে। আমি তো নড়তে চড়তে পারিনা। সবাই বলে অস্ট্রেলিয়ায় যারা অন্যদেশ থেকে আসে তাদের প্রথম বাচ্চা ৬৫% ক্ষেত্রে মিসক্যারেজ হয়ে যায়। সেই ভয়ে আরো বেশী নড়িনা। সিঁড়ি দিয়ে উঠানামা করতে হবে তাই ইউনি যাওয়াও মোটামোটি বন্ধ। তুই-ই চিন্তা করে দেখ আমার অবস্থাটা! যে মেয়ে কিনা সুস্থির মত এক জায়গায় বসেই থাকতে পারে না, সেই-ই কিনা এমন জড়বস্তুর মত পরে আছে তোর জন্য! কী আর করবো, তোকে বই পড়ে শোনাই। পিএইচডি'র পড়া পড়ি শুয়ে শুয়ে। নতুবা নেটে ব্লগিং করি, দুনিয়ার নিউজ পড়ি। শেষে একদিন তোর বাবা বললো, এত পড়লে তো সমস্যা!
আমি অবাক, বললাম, কেনো? শুয়ে শুয়ে আর কী করবো? পড়লে সমস্যা কী?
তোর বাবা খুব গম্ভীর গলায় বলে, দেখো, তুমি এমনিতেও যে পরিমাণ পড়ুয়া, তারউপর এখন যদি এইভাবে পড়তে থাকো, তাহলে পুচকা তো বের হয়েই গন্ডগোল লাগায়ে দিবে!
আমি ঠিক বুঝলাম না, অবাক হয়ে বললাম, কী গন্ডগোল লাগাবে??
তোর বাবা কী বলে জানিস? বলে, "সব বাবু পেট থেকে বের হওয়ার পর ডাক্তাররা বাবুকে উলটা করে পিঠে থাপ্পড় মারে যেনো বাবু কান্না করে। আমাদের বাবুকে থাপ্পড় মারলে তো বাবু উলটা ডাক্তারকে ধমক দিয়ে উঠবে, বলবে, আমাকে থাপ্পড় মেরে বিরক্ত করছেন কেনো?? ডাক্তার অবাক হয়ে তখন বলবে, বিরক্ত করছি মানে? তখন বাবু বলবে, দেখছেন না আমি চিন্তা করছি, আপনি থাপ্পড় মেরে আমার চিন্তায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছেন! ডাক্তার তখন আরো অবাক হয়ে বলবে, কী চিন্তা করছো তুমি? বাবু তখন বলবে, আরে চিন্তার অভাব আছে? আমি চিন্তা করছি পৃথিবীতে এখন কী কী হচ্ছে এবং কেনো হচ্ছে!"
হাহাহাহাহাহাহাহা! তোর বাবার বলার ধরণ দেখে আমি হাসতে হাসতে খুনই হয়ে যাচ্ছিলাম! হিহিহিহহিহি, তুই নাকি বের হয়েই চিন্তা করতে শুরু করবি!! খিকয! অবশ্য এটা ঠিক তুই পৃথিবীতে আসলে স্কুলে যাওয়ার আগে ইউনিভার্সিটিতে যেতি। কারণ তোকে ডে-কেয়ারে দিবোনা সে তোর বাবা আর আমি আগেই ভেবে রেখেছিলাম। অতএব উপায় একটাই, তোকে আমার সাথে ইউনিতে নিয়ে যাওয়া। তুই ইউনিতে গেলে দেখতি, কী বি-শা-ল পড়ার জায়গা। আমি ঠিক করেছিলাম তুই হওয়ার পর তোর বাবাকে কোনো না কোনোভাবে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে একটা প্রফেশনাল ক্যামেরা আদায় করে নিবো, যেটা দিয়ে জুম ইন-আউট করে, আরো অনেক রকম কায়রতি করে ছবি তোলা যায়। তোকে তারপর আমার ইউনির লাইব্রেরীতে নিয়ে ছেড়ে দিবো। লাইব্রেরীতে বইয়ের থাকের সারির মাঝখানে তোর ফটোসেশান! কেমন মজা হতো না? বিশাল বিশাল বইয়ের থাক, তার মাঝখানে তুই হামাগুড়ি দিচ্ছিস! ব্যপারটাতে একটা আয়রনি আছে। আমরা ছোট-বড় সব মানুষরাই আসলে জ্ঞানের জগতে সবসময় হামাগুড়ি-ই দেই। তোর ঐরকম ছবিটার একটা তাই গাঢ় মিনিং থাকতো।
লাষ্টবার যখন ডক'র কাছে গেলাম, জিজ্ঞেস করেছিলাম তুই কতটুকু হয়েছিস। ডক বলেছিলো, হাতের বুড়া আংগুলের নখের সমান! কী আশ্চর্যজনক, না? তোর নাকি এতদিনে হার্টবিটও চলে এসেছে। সবাই আমার উত্তেজনা দেখে হাসে। তুইই বল, উত্তেজিত না হয়ে উপায় আছে? পেটের ভিতর বুড়া আংগুলের সমান তুই, তোর হার্টবিট, ভাবতেই অন্যরকম লাগে। ছোটবেলায় একটা সময় ছিলো যখন মেয়ে কেনো হয়েছি, তাই নিয়ে খুব আফসোস হতো। আল্লাহ'র উপর ভীষণ রাগ হতো আমাকে মেয়ে কেনো বানিয়েছে! ইউনি'তে উঠতে উঠতে সে আফসোস চলে গিয়েছিল। উলটো তখন খুব খুশী ছিলাম মেয়ে হয়েছি বলে। হিহিহি, কেনো জানিস? আমাদের দেশের কনটেক্সটে মেয়ে হলে খুব সুবিধা বুঝলি। সে অন্য প্রসংগ। যেদিন ডক বললো, ছয় সপ্তাহে বেবি'র হার্টবিট শুরু হয়, সেদিন নতুন করে আনন্দ লেগেছিল মেয়ে হওয়ার জন্য। তোর বাবা কখনোই এই আনন্দটুকু পাবেনা; নিজের ভিতর, নিজের রক্ত-মাংসে-নিঃশ্বাসে নতুন একটা প্রাণকে একটু একটু করে অস্তিত্বে আনার আনন্দ!
ততদিনে জড়বস্তুর মত খুব আস্তে ধীরে নড়াচড়া করা আয়ত্ব করে ফেলেছি। তুই ওম-দেয়া মা-মুরগী দেখেছিস? ওহ, তুই কোথথেকে দেখবি, তুইতো পৃথিবীতে আসার আগেই চলে গেলি। মা মুরগীর যখন অনেকগুলো কুটলো-মুটলো টাইপ ছোট ছোট ছানা-মুরগী হয়, ছানাগুলো মা-মুরগীর পায়ে পায়ে সারাক্ষণ ঘুরঘুর করে। আর মা-মুরগী দুই পাখনা ফুলিয়ে ওম দেয় ছানাগুলোকে।সারাক্ষন পাখনাদু'টো দুপাশে ফুলিয়ে ঢোল করে রাখে, ছানাগুলো একটু ভয় পেলেই দৌঁড় দিয়ে সুরসুর করে মা মুরগীর পাখনার ভিতর ঢুকে যায়। মা-মুরগী তখন হেলেদুলে আস্তে ধীরে হাঁটে। তোর বাবা আমার হাঁটা দেখে বলতো আমার অবস্থা নাকি ওম-দেয়া মা-মুরগীর মত! হিহিহি, রাগ করতাম না, উলটা আসলেই নিজেকে সেইরকম মনে হতো। মনে হতো যেনো একটু জোরে হাঁটলেই পেটের ভিতর তুই যদি ভেংগে যাস? তোকে ততদিনে ভালবাসতে শুরু করেছিলাম, তাই চাইতাম না তোর কোনো ক্ষতি হোক। নিজে নাহয় এই ক'দিন নাইবা দৌঁড়াদৌঁড়ি করলাম। তারচে' তোর বাবাকে ক্ষেপাতাম, তুই যখন আসবি, তোকে আমি পাংকু-বেবি বানাবো। ছেলে হোস বা মেয়ে, নো প্রবলেমো, তোর চুল স্পাইক করে, ঐ যে দুই-কালারের হাতা-ওয়ালা কতগুলা টি-শার্ট আছেনা? যেগুলোর কাঁধ থেকে কনুই পর্যন্ত এক কালার, কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত আরেক কালার; ঐ রকমের দুইটা শার্ট কিনবো, একটা বড়, যেটা পড়বো আমি, আরেকটা ছোট যেটা পড়বি তুই! ব্যাগি প্যান্ট পড়ে তুই একদম একশান! তোর বাবার চেহারা যদি দেখতি, হিহিহিহিহি, হাঁ করে আমার মুখের দিকে তাকায়ে বলতো, প্রেগন্যান্সিতে যে মাথার তার ছিঁড়ে যায় এটাতো জানতাম না!
মুখে যতই তোর বাবাকে হাবিজাবি বলে আঁতকে দেইনা কেনো, তোকে নিয়ে মাঝে মাঝে টেনশানও হতো। আমি ঠিক নিশ্চিত ছিলাম না তোকে কোন পৃথিবীতে আনছি। দেখ, পৃথিবীতে প্রতিদিন কত বাবু আসছে, কত মেয়ে নতুন করে প্রেগন্যান্ট হচ্ছে; সবাইকে দেখে আমার অবাক লাগে জানিস, কারো কোনো টেনশান নাই। কিন্তু তোকে নিয়ে আমি টেন্স ছিলাম। সেদিন আমাদের পিএইচডি'র এক ওয়ার্কশপে কোন এক আবহাওয়াবিদ না কী যেন এসেছিলেন অতিথি গেষ্ট হিসেবে। গ্রাফ-টাফ দিয়ে, মাটির ভিতরের, পৃথিবীর বাইরের অনেক কিছুর ছবি-টবি দিয়ে এক ঘন্টার লেকচার যখন শেষ করলেন, আমি তখন রুম থেকে বের হয়ে রীতিমত ভয়ে কাঁপছিলাম। আমরা সাধারণ মানুষরা কত নির্ভয়ে কত আনন্দে আছি, কিন্তু পৃথিবীটা দ্রুত, খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গ্রীন-হাউজ ইফেক্ট যতটা দ্রুত পৃথিবীর উপর নেগেটিভ প্রভাব ফেলার কথা, তারচেয়ে হাজারগুন দ্রুত প্রভাব ফেলছে। বরফ গলে যাচ্ছে, সমুদ্রের উচ্চতা বাঁড়ছে, আবহাওয়া এক্সট্রিম হয়ে যাচ্ছে। গ্রীষ্মে রোদ আর শীতে ঠান্ডার মাত্রা বাড়ছে। আমি তো এই বিষয়ে পড়ালেখা করিনি, তাই ওদের মত করে গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর বিষয়টা বুঝাতে পারবোনা তোকে। কিন্তু যতটুকু জ্ঞান আছে, তাতে ঐ লেকচার থেকে বুঝতে পেরেছিলাম, এখন পৃথিবীর বিশ্ব-রাজনীতি'র চেয়েও মারাত্নক ইস্যু পরিবেশ, যে পরিবেশ প্রতি সেকেন্ডে ম্যারাথন গতিতে পৃথিবীকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
ক'দিন আগে একটা মুভি বের হয়েছে, ২০১২। ঐ লেকচার শোনার পর মনে হচ্ছিলো, এইরকম কিছু একটা হওয়া অস্বাভাবিক কিছু না। ক'দিন আগেই নিউজে পড়েছি, আফ্রিকার মরুভূমির ভিতর দিয়ে নতুন মহাসাগর সৃষ্টি হচ্ছে। তুই-ই বল, এমন একটা পৃথিবীতে তোকে আনতে গিয়ে টেনশান না করে উপায় আছে? আর ধর, তোর জেনারেশান যদি কোনোরকমে এই পরিবেশ-ইস্যু পার করেও দিস, তাও তো পৃথিবীটা ঠিক বেঁচে থাকার জন্য তেমন নিরাপদ না। তোকে কত কিছুর সাথে যে যুদ্ধ করতে হবে! এইসব যুদ্ধ কামান-বন্দুক নিয়ে যুদ্ধ করার চেয়েও মারাত্নক। তোকে এই পৃথিবী তোর বেসিক হিউম্যান রাইটস-ই দেবেনা! তোর প্রতিটা অধিকারের জন্য তোকে যুদ্ধ করতে হবে। আমি অন্য মা'দের মত না, যারা ভাবে সন্তান নিজে বেঁচে-খেয়ে ভাল থাকুক। আমি চাই তুই তোর চারপাশের সবাইকে নিয়ে ভাল থাক, পৃথিবীকে নিয়ে ভাল থাক। এই যে আমার চাওয়াটা, আমি কিন্তু তোর উপর এই চাওয়াটা চাপিয়ে দিবো। শুধু আমি না, তোর বাবা তার ইচ্ছা চাপাবে তোর উপর। সমাজ চাপাবে, দেশ চাপাবে। কত রকমের যে প্রেসারের মধ্য দিয়ে তোকে বড় হতে হবে! এইসব ভেবে আমার ক্লান্তি লাগতো। কাউকে বলতাম না। কারন কাউকে বললেই তো পাগল ভাববে। বলবে, পৃথিবীতে কী তুমি একাই মা হতে যাচ্ছো?? কী জানি, আমি হয়তো অন্য মা'দের মত না। আর সেজন্যেই কী তুই রাগ করে চলে গেলি নাকি?
তুই রাগ করে চলে গিয়েছিস কিনা জানিনা, তবে আমি কিন্তু তোর উপর খুব রেগে গিয়েছিলাম। যখন শুনলাম, তোর জন্য আমাদের স্নো-মাউন্টেনে যাওয়ার প্রোগ্রামটা বাতিল হয়ে গেছে! রাগ না করে উপায় ছিলো? তুই-ই বল! ছোটকাল থেকে শখ স্নো পড়া দেখবো। বাতাসে তুলোর মত নরম নরম আলতো বরফ পড়বে, আর সেই বরফে আমি দুই হাত ডানার মত ছড়িয়ে দিয়ে সাঁ-ই-ই-ই করে দৌঁড়াবো! তোর বাবারও স্নো পড়া দেখার খুব শখ। কিন্তু বিয়ের পর বউ নিয়ে বরফ পড়া দেখবে তাই নিজেও এতদিন দেখেনি। সিডনীতে সাধারণত বরফ পড়েনা। শীতকালে তাই সবাই স্নো-মাউন্টেন যায় বরফ পড়া দেখতে। গতবছর যাওয়া হয়নি, এইবছর কত আয়োজন করে চার-পরিবার মিলে দিন-ক্ষণ ঠিক হলো, ওম্মা, তোর বাবা পুরা বেঁকে বসলো! ওখানে গিয়ে আমি লাফালাফি করলে তোর নাকি ক্ষতি হবে! কত করে বুঝালাম, আমি লাফাবো না, দৌঁড়াবো না (হিহিহি, মিথ্যা কথা, গেলে ঠিকই দৌঁড়াতাম, তোর জন্য এমন আজন্মের স্বপ্ন পূরণ করবোনা, পাগল নাকি? আমি জানি, আমি দৌঁড়ালেই বরং তুইও খুশী হতি! শত হলেও আমার রক্তের ভিতরেই তো তোর বসবাস ছিলো!); কিন্তু তোর বাবা না একটা আস্ত শয়তান, কথাই শুনেনা। তোর উপর তখন আমার ভীষণ রাগ হয়েছিল। আমরা যাইনি, তাই অন্যরাও কেউ যায়নি! যে তোর জন্য আমাদের বরফ দেখতে যাওয়া হলোনা, সেই তুই-ই শেষপর্যন্ত নিজেই কোথায় চলে গেলি!
আরেকদিন রাগ করেছিলাম তোর উপর। আসলে ঠিক তোর উপর না, নিজের উপর। ভেবে পাচ্ছিলাম না দেশে গ্রামে-গঞ্জে, এমনকি শহরেও অনেক পরিবারে মেয়েরা প্র্যাগনেন্সি'র সময় ঠিক মত খাওয়া পায়না, শ্বশুড়-শ্বাশুড়ি ননদ- ননসরা কত জালায়, এমনকি মারধরও করে, রাতদিন কাজ করায়, তারপরও তো কই, ওদের তো ঠিকই বাচ্চা ঠিক ঠিক হয়! তোর জন্য কেনো তাহলে আমাকে এত্ত বেশী বেশী সাবধান থাকতে হবে? জানিস ঐ মেয়েদেরকেই আমার কাছে আসল মেয়ে মনে হয়, আর আমাদেরকে মনে হয় ফার্মের মানুষ! ওরা কতকিছুর পরও টিকে থাকে, যেন বটগাছের মত, ঝড়-ঝাপটা সব পিশে দিয়ে গেলেও ঠিকই দাঁড়িয়ে থাকে মাথাটা সোজা করে; আর আমরা এত্ত ভংগুর! একটু টোকা দিলেই লটর পটর করে ভেংগে যাই! সেদিনের রাগটা অবশ্য কারো উপর ঝাড়তে না পেরে তোর সাথেই কিছুক্ষন গজ গজ করেছিলাম। তুই মনে হয় টের পেয়েছিলি। তাই এখন এমন ফাঁকি দিয়ে চলে গেলি।
তবে একটা মজার কথা কী জানিস? হাউ মাউ করে কাঁদলাম। হস্পিটালে ব্যথায় কোঁকালাম, মরফিনের ঠেলায় বেঁহুশের মত ঘুমালাম। কিন্তু বাসায় এসে প্রথম কাজ কী করেছি জানিস? এক কাপ গরম গরম ধোঁয়া উঠা চা খেয়েছি, ইশ, পুরো সাত সপ্তাহ পর! সত্যি বলতে, তখন যা আরাম লেগেছিল। ঐ এক কাপ চায়ের জন্যেই তোর চলে যাওয়াটা যেনো আমি মাফ করে দিতে পারি! তুই কি ভাবছিস আমি কত নিষ্ঠুর? নারে সোনামানিক, মানুষ এমনই। তুই পৃথিবীতে আসলে দেখতি, কত ঠুনকো জিনিষ আমাদের কাছে কত গুরুত্বপূর্ণ, কত হাস্যকর ফালতু বিষয়ে মানুষ এমনকি একজন আরেকজনকে খুন করে ফেলে, দেশে দেশে যুদ্ধ লাগিয়ে দেয়; আবার কত মারাত্নক গুরুত্বপুর্ণ বিষয় আমরা অবহেলায় ফেলে রাখি, তাকিয়েও দেখিনা। তুই যদি মানুষ হয়ে পৃথিবীতে আসতি, তাহলে হয়তো বুঝতি।
কিন্তু ধোঁয়া উঠা এক কাপ গরম চা খাওয়ার আরামটা চলে যাওয়ার পর থেকে তোর জন্য আবার বুকটা কেমন খালি খালি লাগছে। সাত সপ্তাহ, হাতে গুনলে ক'টা মাত্র দিন, এ ক'দিনেই মানুষ কী করে পারে কাউকে এমন করে অনুভব করতে? তুই চলে যাওয়ার পরও এখনো হঠাৎ করে বসা থেকে দাঁড়াতে গিয়ে অজান্তেই হাত পেটে চলে যায়, যেনো ওখানে তুই আছিস, তোর উপর যেনো আচমকা টান না লাগে। অনেক অনেকদিন পর আজকে বিকেলে একলা একলা হাঁটতে বের হলাম। ঝির ঝির বৃষ্টি হচ্ছে আজকে সারাদিন। বৃষ্টি আমি বরাবরই ভালবাসি। কিন্তু আজকে এক ফোঁটা আনন্দ লাগেনি। চোখে মুখে বৃষ্টির ছিটা পড়তে পড়তে সারাটা হাঁটা জুড়ে শুধু তোকেই ভাবছিলাম। ভেবেছিলাম একদিন তুই পৃথিবীতে এসে আমার কড়ে আংগুল ধরে এই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাবি থপাস থপাস পা ফেলে! আশেপাশের মানুষ হাঁটার গতি কমিয়ে তোর নতুন নতুন হাঁটতে শেখা দেখে হাসবে। তোর গালে আলতো করে টিপে দিয়ে, চুলে হাত বুলিয়ে দিয়ে আদর করে দিয়ে যাবে। তুই হাঁটতে হাঁটতে পড়ে যাওয়া সামলে নিতে আমার হাঁটু জড়িয়ে ধরবি। আমি তখন তোকে কোলে নিয়ে বলবো, অনেক হেঁটেছিস, আর হাঁটতে হবেনা!
তোর নানা-নানী, দাদা-দাদী কত আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করে ছিলো। তোর বাবা, আমি… সবাই। তোর যাওয়াটা আমাকে নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে, পৃথিবীতে আমাদের আসা-যাওয়াটা কত ইনসিগনিফিকেন্ট, তুই সাত সপ্তাহে চলে গেছিস, আমরা হয়তো আরো কিছুদিন থেকে যাবো। কিন্তু সেইতো যাওয়াই লাগে। ফুয়াদ মারা যাওয়ার পর প্রায়ই ভাবতাম, মানুষ কোথায় যায়? কোরান'এ মৃত্যুর পরের কথা যে সামান্য ইংগিতটুকু দেয়া হয়েছে, তাও বেশীরভাগ মেটাফোর দিয়ে বলা; আর কোরানের বাইরের গুলো বেশীরভাগ হুযুরদের বানানো মানুষকে ভয় দেখাতে। আমরা যারা বেঁচে আছি, আমরা আসলে কেউই জানিনা তোরা কোথায় যাস, কীভাবে থাকিস; আমরা শুধু প্রিয়জনদের জন্য আকাঙ্ক্ষা করতে পারি, যেন তুই-তোরা সবাই যেখানেই থাকিস ভাল থাকিস।
যাযাবর লিখেছেন : মানুষজনের সচেতন হওয়া দরকার, এই ব্যপারটা এখন খুব সাধারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, শুনলাম দেশেও মেয়েদের প্রথম বাচ্চা অনেকেরই মিস ক্যারেজ হয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর আবহাওয়া আমরা সবাই মিলে নষ্ট করছি, এর খেসারত দিচ্ছে মেয়েরা তাদের প্রথম সন্তান হারিয়ে... নট ফেয়ার।
যাযাবর লিখেছেন : এই পোষ্ট স্টিকি হইছিলো নাকি??????!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
৪
15551
১৪ অগাস্ট ২০১০; সকাল ০৯:২৪
নামহীন লিখেছেন : অবশ্যই বিষয়টি দুখজনক। কিন্তু এটা একজন মায়ের একান্ত কষ্টের কথা। আমি মনে করি এই কষ্ট গোপনীয়তায় আরো মাধুর্যপুর্ন হয়ে উঠত। এভাবে প্রকাশ করায় আমার মতে এর মাহাত্ম্যই নষ্ট হয়েছে শুধু।
লেখিকার লেখার সোন্দর্য্য আর তার মনোকষ্টের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি , এটাকে স্টিকি করার কোন কারন দেখছি না।
স্টিকি পোষ্ট গুলোর বিষয়ে আরো সতর্ক হয়ে বাছাই করার পরামর্শ রইল।
কীবোর্ড
Bijoy UniJoyPhoneticEnglish
নাম:
মন্তব্য:
তথ্য পাঠানো হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন
১৫ অগাস্ট ২০১০; সকাল ০৮:৪১
7329
যাযাবর লিখেছেন : পোষ্ট স্টিকি করা হইছিলো শুনে হাসি পেলো। তবে একান্ত যে কষ্টের কথা বলেছেন তার সাথে একমত হলাম না। আমরা আমাদের, বিশেষ করে মেয়েদের জীবনের সবকিছুকে এভাবে 'ট্যাবু' বানিয়ে ফেলার কোনো লজিক্যাল কারণ দেখিনা। এটা এখন একটা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফিনোমিনা, এবং মানুষজনের জানা উচিত গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর খেসারত হিসেবে আমরা মেয়েরা কতটা ইমোশনালি সাফার করছি।
৫
15552
১৪ অগাস্ট ২০১০; সকাল ০৯:২৫
সাহারা....... লিখেছেন : তুইতো পৃথিবীতে আসার আগেই চলে গেলি।
খুব দু:খ পেলাম
ভালো লাগলো
ধন্যবাদ .
কীবোর্ড
Bijoy UniJoyPhoneticEnglish
নাম:
মন্তব্য:
তথ্য পাঠানো হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন
৬
15557
১৪ অগাস্ট ২০১০; সকাল ০৯:৩৬
দুষ্টু মেয়ে লিখেছেন : একটা মেয়ের এই কষ্টটা সম্ভবত: আরেকটা মেয়ে ছাড়া বুঝতে পারে না। পোস্ট স্টিকি করার জন্য ধন্যবাদ।
কীবোর্ড
Bijoy UniJoyPhoneticEnglish
নাম:
মন্তব্য:
তথ্য পাঠানো হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন
৭
15558
১৪ অগাস্ট ২০১০; সকাল ০৯:৪০
বাঙালী**** লিখেছেন : মেয়ে হক ছেলে হক তা বুঝিনা,লেখাটি ভালো লেগেছে, পোস্ট স্টিকি করার জন্য ধন্যবাদ।
মাসরুর রাহীল লিখেছেন : এই লেখাটি আরও বড় হলেও কোন আপত্ত্বি থাকতো না। অ-নে-ক সুন্দর একটি লেখা।
স্টিকি করার জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।
কীবোর্ড
Bijoy UniJoyPhoneticEnglish
নাম:
মন্তব্য:
তথ্য পাঠানো হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন
১০
15578
১৪ অগাস্ট ২০১০; সকাল ১০:১০
সত্যবাদী লিখেছেন : চোখে জল চলে এলো। মডারেটরদের ধন্যবাদ পোস্টটি স্টিকি করবার জন্য।
কীবোর্ড
Bijoy UniJoyPhoneticEnglish
নাম:
মন্তব্য:
তথ্য পাঠানো হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন
১১
15585
১৪ অগাস্ট ২০১০; সকাল ১০:১২
মাহমুদ রহমান লিখেছেন : পড়লাম। আপনার লেখা কেউ নকল করতে পারবে না। বড়ই সৌন্দর্য
আমার মনে হয়ে সে আপনার অতিরিক্ত চিন্তা করা দেখে ভয়েই চলে গেছে। আবার এমনও হতে পারে, আল্লাহ হয়ত ঐসময় ওকে বলেছিল তোকে কিন্তু সমাজের বিরাট দায়িত্ব নিতে হবে। সে হয়ত ছুটি চেয়েছে আর আল্লাহ তা মঞ্জুর করেছেন।
আল্লাহ তাঁকে সুন্দর রাখুন। তারজন্য সাত সপ্তাহ কষ্ট করেছেন, আল্লাহ এই পরীক্ষার মাধ্যমেও আপনার উপর সন্তুষ্ট থাকুন। আমীন।।
মাহফুজ লিখেছেন : এত মাইনাসের কারণ কি? এই ধরনের লেখা স্টিকি করে সাবু আবারো নিজেকে সবার চেয়ে আলাদা আর বেটার হিসাবে প্রমাণ কারল। সাবু আর পোস্ট দুটাকেই পিলাস>
আব্দুল্লাহ মাহমুদ নজীব লিখেছেন : মন খারাপ হয়ে গেল আপনার লেখা পড়ে। অসম্ভব ঝরঝরে ভাষায় সুন্দর একটা পোস্ট। স্টিকি করার জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ। হৃদয়ের ব্যথাগুলো পরস্পরের মাঝে শেয়ার করার মাধ্যমে আমরা একজন আরেকজনের কাছাকাছি হই, যদিও বা কেউ কাউকে চিনিনা। মানুষ হিসেবে আমাদের উচিত আরেকজনের ব্যথায় ব্যথিত হওয়া।
শরীফ নজমুল লিখেছেন : নামহীন লিখেছেন, : অবশ্যই বিষয়টি দুখজনক। কিন্তু এটা একজন মায়ের একান্ত কষ্টের কথা। আমি মনে করি এই কষ্ট গোপনীয়তায় আরো মাধুর্যপুর্ন হয়ে উঠত। এভাবে প্রকাশ করায় আমার মতে এর মাহাত্ম্যই নষ্ট হয়েছে শুধু।
লেখিকার লেখার সোন্দর্য্য আর তার মনোকষ্টের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি , এটাকে স্টিকি করার কোন কারন দেখছি না।
এটি কেন স্টিকি হলো বুঝলাম না।
কীবোর্ড
Bijoy UniJoyPhoneticEnglish
নাম:
মন্তব্য:
তথ্য পাঠানো হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন
১৫ অগাস্ট ২০১০; সকাল ০৮:৪৮
7334
যাযাবর লিখেছেন : পোষ্ট স্টিকি করা হইছিলো শুনে হাসি পেলো। তবে একান্ত যে কষ্টের কথা বলেছেন তার সাথে একমত হলাম না। আমরা আমাদের, বিশেষ করে মেয়েদের জীবনের সবকিছুকে এভাবে 'ট্যাবু' বানিয়ে ফেলার কোনো লজিক্যাল কারণ দেখিনা। এটা এখন একটা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফিনোমিনা, এবং মানুষজনের জানা উচিত গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর খেসারত হিসেবে আমরা মেয়েরা কতটা ইমোশনালি সাফার করছি।
নির্বাক পথচারী লিখেছেন : খুব সুন্দর একটা পোস্ট।
কিন্তু কমেন্টের জন্য ভাষা পাচ্ছিনা।
শুধু একটা প্লাস রেটিং দিয়ে কিছুটা কৃতজ্ঞতা জানালাম এই সুন্দর পোস্টের জন্য । প্রিয়তে রাখলাম।
কীবোর্ড
Bijoy UniJoyPhoneticEnglish
নাম:
মন্তব্য:
তথ্য পাঠানো হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন
৩৭
16061
১৪ অগাস্ট ২০১০; সন্ধ্যা ০৬:৫৭
shatkora লিখেছেন : বরাবরের মতই অসাধারন। তাই প্রতিক্রিয়া সাধারন।
কীবোর্ড
Bijoy UniJoyPhoneticEnglish
নাম:
মন্তব্য:
তথ্য পাঠানো হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন
৩৮
16065
১৪ অগাস্ট ২০১০; সন্ধ্যা ০৬:৫৯
shatkora লিখেছেন : লেখাটি স্টিকি করার জন্য ব্লগ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।
কর্তৃপক্ষ আলাদা করে নির্বাচিত পোস্টের ক্যাটেগরী করতে পারেন।
কীবোর্ড
Bijoy UniJoyPhoneticEnglish
নাম:
মন্তব্য:
তথ্য পাঠানো হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন
৩৯
16120
১৪ অগাস্ট ২০১০; সন্ধ্যা ০৭:৫৮
সালমান হাসান লিখেছেন : shatkora লিখেছেন, : লেখাটি স্টিকি করার জন্য ব্লগ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।
কর্তৃপক্ষ আলাদা করে নির্বাচিত পোস্টের ক্যাটেগরী করতে পারেন
তারিক রিদওয়ান লিখেছেন : "ভেবেছিলাম একদিন তুই পৃথিবীতে এসে আমার কড়ে আংগুল ধরে এই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাবি থপাস থপাস পা ফেলে! আশেপাশের মানুষ হাঁটার গতি কমিয়ে তোর নতুন নতুন হাঁটতে শেখা দেখে হাসবে। তোর গালে আলতো করে টিপে দিয়ে, চুলে হাত বুলিয়ে দিয়ে আদর করে দিয়ে যাবে। তু...ই হাঁটতে হাঁটতে পড়ে যাওয়া সামলে নিতে আমার হাঁটু জড়িয়ে ধরবি। আমি তখন তোকে কোলে ...নিয়ে বলবো, অনেক হেঁটেছিস, আর হাঁটতে হবেনা!"........ আমি যেনো সত্যিই এই ছবিটা দেখতে পাচ্ছি আপ্পি
সত্যিই আমি কেঁদে ফেললাম!!! মামা তুই কবে আসবি??? বল তুই কবে আসবি!!! :@ মামা-ভাগ্নে মিলে সারাবিশ্ব ঘুরে বেড়াবো!!! বাঁদরামী করে তোর মাকে জ্বালিয়ে মারবো!!! আমারও যে কত্তো স্বপ্ন!!!...... :'(
কীবোর্ড
Bijoy UniJoyPhoneticEnglish
নাম:
মন্তব্য:
তথ্য পাঠানো হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন
৪২
18568
১৭ অগাস্ট ২০১০; সকাল ০৮:১৩
সন্ধ্যাবাতি লিখেছেন : অস্ট্রেলিয়ায় মা এবং সন্তান সংক্রান্ত রিসার্চ হয় যেসব ইউনিটে, সেরকম একটায় আমার কাজ। তাই চারিদিকে ডাক্তার, নার্স আর রিসার্চারেরা... জানার এবং আলোচনার পথ সোজা। এবরশন, কনসেপশন এগুলো নিয়ে ডিসকাস করতে করতে এগুলো পেলাম, যেগুলো সম্পর্কে সাধারণ মেয়েরা তেমন জানে বলে মনে হয় না:
১. বয়স। ২০ বছরের পর থেকেই স্পনটেনিয়াস এবরশনের রিস্ক বাড়তে থাকে খুব দ্রুত! বয়স-সীমাটা এত কম, আমি আগে জানতাম না। শুধু জানতাম ৩০ এর পর প্রেগনেন্সি রিস্কি! এখন কিন্তু বিয়ে এবং সন্তান ধারণের বয়স বেড়ে গিয়েছে। আমি জানি যে তিরিশের পরে যদি কারও 'প্রথম সন্তান' হয়, তাহলে 'প্রিমেচুয়ার বার্থ' এর রিস্ক বেশি থাকে। কিন্তু ২০ এর পরেই এবরশনের রিস্ক বাড়তে থাকে!!!
২. ক্যাফেইন!!! (এবং অ্যালকোহল, যেটা বাংলাদেশের জন্য ঠিক এপ্লিকেবল না...) বাচ্চার প্রথম দুই মাসে ভয়াবহ ক্ষতি করে! ক্যাফেইনের সোর্স চা, কফি এবং কোক---আমাদের দেশী মেয়েদের তিনটা অতি প্রিয় পানীয়! অনেক মায়েরা প্রেগনেন্ট হয়েছে এটা বুঝে উঠার আগেই অ্যাকোহল-চা-কফি-কোক খাওয়ার ফলে হয়তো ক্ষতিটা হয়ে যায়। মা খালাদের সময় কিন্তু এত চা/কোক কোনটাই ছিল না...
৩. খাদ্যাভ্যাস- এটা থার্ড ইয়ারে নিউরোএনাটমিতে পড়েছিলাম। ঠিক মত কনসেপশন এবং ভ্রুনের প্রথম দিকের বড় হওয়ার জন্য ভিটামিন বি খুবই প্রয়োজনীয়। মাইগ্রেন্টদের মধ্যে এবরশনের রিস্ক বাড়ার পিছনে এটা একটা কারণ থাকতে পারে। আমাদের দেশী সাদা রুটি, সাদা চালে ভিটামিন বি নেই। অন্যদিকে এখানকার মেয়েরা বিস্বাদ উইটবিক্স বা কর্নফ্লেইকস খেয়ে বড় হয়, আবার আমাদের মা খালাদের যুগেও ছিল লাল আটা আর লাল চালের যুগ, যেগুলোতে ভিটামিন বি অনেক।
৪. বার্থ কন্ট্রোল পিল - বার্থ কন্ট্রোল পিল যারা খায়, তাদের জীবনের কোন এক পর্যায়ে 'পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রম' (পিওএস) ডেভেলপ করার রিস্ক থাকে! পিওএস যাদের থাকে তাদের কনসেপশনে সমস্যা হয়, প্রেগনেন্সিতে সমস্যা হয়! আমি জানতাম না যে বার্থ কন্ট্রোল পিলের এরকম কোন রিস্ক আছে, কিন্তু একজন নার্স আর একজন রিসার্চার দাবী করলো ওদের পর্যবেক্ষন নাকি তাই বলে! অথচ ডাক্তাররা কিন্তু দাবী করে বার্থ কন্ট্রোল পিলের কোন লং টার্ম এফেক্ট নেই! শুনে ভয় লাগল, মেয়েরা তো এখন মুড়ির মত পিল খায়
৫. আমাদের ইউনিটে বেলিন্ডা নামের একটা নার্স আছে। ওর এখন প্রেগনেন্সির ৩৫ সপ্তাহ। পুরা প্রেগনেন্সিতে ও একদিনও ছুটি নেয় নি! প্রথম তিন মাসেও না! আমি খুবই হতভম্ব হয়েছি। ওকে জিজ্ঞাসা করেছি, এটা কিভাবে সম্ভব??? ও বললো, ও প্রেগনেন্ট হওয়ার আগেই স্বাস্থ্য ঠিক রাখার চেষ্টা করতো, প্রচুর সবজি, এলকোহল খুব কম, আর প্রচুর স্পোর্টস! আমাদের মা খালারা স্পোর্টস কি সেটা বুঝেছিল, গ্রামে দৌঁড়া দৌড়ি করে... আমার মা পনের বছর বয়সেও গাছে উঠে বসে থাকত, প্রতিদিন দুই ঘন্টা সাঁতার কাটতো নদীতে... আমরা যারা শহরে বড় হয়েছি তাদের কিন্তু সেই সুযোগটাই হয় নি! এখানকার মেয়েরা সেই তুলনায় অনেক একটিভ এবং হেলথি লাইফ চালায়...
বিশ্বের পরিবেশ-প্রকৃতি খারাপ দিকে যাচ্ছে সেটা ঠিক, কিন্তু আমাদের লাইফ স্টাইল তার চেয়েও দ্রুত গতিতে বদলে গিয়েছে গত দু'দশকে। বিশ্ব আবহওয়া যেভাবে বদলে গিয়েছে, যাচ্ছে, এটার রিভার্সাল একটা ইনডিভিজুয়াল মেয়ে হুট করেই করতে পারবে না। কিন্তু নিজের লাইফ স্টাইলের উপর যতটুকু কন্ট্রোল আছে, সেটার সদ্ব্যবহার করে খুব সহজেই রিস্ক ফ্যাক্টরগুলো একটু দূর করতে পারে...
একটা কথা শুনলে হয়তো ভালো লাগবে তোমার। প্রথম দুই মাসে এবরশন হয় যায় এরকম ভ্রুনগুলোর বেশ বড় একটা ভাগের ক্ষেত্রেই ক্রোমোজোমাল এবনরমালিটি থাকে... অর্থ্যাৎ ডাউন সিন্ড্রম টাইপের সমস্যা থাকতে পারে। পৃথিবীতে যত কাজ করানোর প্ল্যান করছিলে, সেসব করতে পারতো না বলে হয়তো আল্লাহ নিজেই ডেকে নিয়ে গিয়েছেন ওকে
কীবোর্ড
Bijoy UniJoyPhoneticEnglish
নাম:
মন্তব্য:
তথ্য পাঠানো হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন
১৭ অগাস্ট ২০১০; সকাল ০৮:৪২
8240
যাযাবর লিখেছেন : সন্ধ্যাবাতি, তোমার এই কমেন্ট আলাদা করে পোষ্ট দাও প্লীজ। এইসব বিষয়ে এভাবে সুন্দর করে কেউ লিখেনা বলে আমাদের মত অনেক মেয়েরাই জানিনা। তোমার কমেন্টটাকে আরেকটু ডিটেইলস করলেই দারুন একটা ইনফরমেটিভ পোষ্ট হবে। অনেককিছু জানলাম। অনেক অনেক ধন্যবাদ।
১৭ অগাস্ট ২০১০; সকাল ০৮:৪৪
8242
যাযাবর লিখেছেন : তোমার এই কমেন্ট কে প্রিয়তে নিতে চাই, কিন্তু কমেন্ট তো প্রিয়তে নেয়া যায়না
প্লীজ পোষ্ট চাই!
ইবনে হাসেম লিখেছেন : পড়া শেষ না করতেই ইফতারের সময় হয়ে গেল। তারপরেও পড়লাম, ফাকে ফাকে। এতো সুন্দর লেখা লিখতে পারেন, আর ঐ বেবীটা কিনা আপনাকে ......
যাক মন খারাপ করবেন না। আল্লাহর ভান্ডার অসীম। তিনি অবশ্যই আপনাকে দিবেন, এবং খুশী করবেন। ইস, নামাজে যেতে হবে, সরি, আর কিছু পারলামনা লিখতে, যদিও অনেক কিছুই লিখবো ভেবেছিলাম
কীবোর্ড
Bijoy UniJoyPhoneticEnglish
নাম:
মন্তব্য:
তথ্য পাঠানো হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন
৪৬
19133
১৭ অগাস্ট ২০১০; রাত ১০:০৩
অজানা অচেনা লিখেছেন : এইতো আসলাম মার্কা পোষ্ট দিয়েছিলাম, তাই ঐগুলো ডিলিট করে দিয়েছিলাম। এখন নতুন একটা পোষ্ট দিয়েছি, তাও কিন্তু পুরনো পোষ্ট। নতুন লেখা আপাততঃ আসছেনা মাথায়
যাযাবর লিখেছেন : ভাববেন না সামু থেকে এখানে এসে আপনাকে আমি ভুলে গেছি। এও ভাববেন না আপনি যা বলতে চাচ্ছেন তা আমি বুঝিনি। যা বুঝেছি তাই যদি মীন করে থাকেন আপনার প্রতি আমার ধিক্কার। আপনারা কখনো মানুষ হলেন না। মানুষ হলে অন্য মানুষের দুঃখ-কষ্ট নিয়ে এভাবে স্যাটায়ার করতে পারতেন না। ধিক আপনাকে।
৫১
19402
১৮ অগাস্ট ২০১০; সকাল ০৬:১১
নিও লিখেছেন : মন্তব্য পড়ে আমার মনে একটা প্রশ্নের উদয় হলো। ধর্ম সম্পর্কে খুব কমই জানি, যদি বোকার মতো প্রশ্ন হয়, ক্ষমা করে দেবেন।
মানুষ যদি পাপের ফল হিসেবে বিপদে পড়ে তাহলে আমি একটা হিসেব মেলাতে পারিনা। আমার পরিচিত বাঁধন নামের এক গাঞ্জাখোর ছেলের একটা হাত লুলা। সে বিভিন্ন আবেদন জানিয়ে টাকা সংগ্রহ করে। একহাতেই আবেদনগুলো টাইপ করতে হয়। অন্যান্য লেখা দিয়েও সে একটা ভাবমুর্তি তৈরী করে। টাকা যোগাড় হলে এক হাত দিয়েই বনানী বাজারের চিপায় বসে অনেক কষ্ট করে শুকনা বের করে, বাটে, আবার জ্যাকেটে ঢুকায়, তারপর আগুন ধরায়। এই যে এত কষ্ট, এটা কার পাপের ফল?
কীবোর্ড
Bijoy UniJoyPhoneticEnglish
নাম:
মন্তব্য:
তথ্য পাঠানো হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন
১৮ অগাস্ট ২০১০; সকাল ১১:৫৮
8828
যাযাবর লিখেছেন : যে বিশ্বাস করে মানুষ অন্যের পাপের ফল হিসেবে বিপদে পড়ে, তাকে জিজ্ঞেস করা লাগবে
৫২
19586
১৮ অগাস্ট ২০১০; দুপুর ১২:৪৪
জাকিয়া তানজিম লিখেছেন : অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানলাম!বিশেষ করে সন্ধ্যাবাতির কমেন্ট,,।
আর আপনার জন্য মনটা ভীষন খারাপ হয়ে গেল
আমি নিজেও সেই টাইপের কিছু সমস্যা ফেইচ করছি,,!কি আর করবেন!এই প্রবাসে বাবা-মা,ভাই-বোনও নেই যে কারো সাথে কষ্টটা শেয়ার করে একটু হালকা হওয়া যাবে,,!আর এই কষ্টের অনুভূতিটা আসলে ভুক্তভোগী ছাড়া আর কেউ বোঝে না। আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। দোয়া রইল আপনার জন্য। আমার জন্যও দোয়া করবেন। শুভ কামনা!
কীবোর্ড
Bijoy UniJoyPhoneticEnglish
নাম:
মন্তব্য:
তথ্য পাঠানো হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন
৫৩
21754
২০ অগাস্ট ২০১০; রাত ০৯:০৫
shatkora লিখেছেন : স্বপ্নকথক, আপনি এরকম একটা পোস্টে এ জাতীয় কথা লিখলেন কি করে। আপনি একজন মানুষকে অপছন্দ করতেই পারেন, কিন্তু তাই বলে কুৎসিতভাবে অপছন্দের বহিপ্রকাশ কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তাহলে খালেদা জিয়া যে ১৫ ই অগাস্টে জন্মদিনের কেক কেটে উৎসব করেন, সেটাতেও প্রতিবাদ করার কিছু থাকে না। অথচ এ বিষয়টি আমার সব সময়ই খারাপ লাগত, যদিও আমি আওয়ামী নই।