الحمد لله رب العالمين ، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى اله وصحابته والتابعين لهم باحسان الى يوم الدين
আশূরায়ে মুহাররম আমাদের দেশে শোকের মাস হিসাবে আগমন করে। শীআ, সুন্নী সকলে মিলে অগনিত শিরক ও বিদ’আতে লিপ্ত হয়। কোটি কোটি টাকার অপচয় হয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে। সরকারী ছুটি ঘোষিত হয় ও সরকারীভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদি পালিত হয়।
হুসায়েন رضى الله عنه এর ভূয়া কবর তৈরী করে রাস্তায় তা’যিয়া বা শোক মিছিল করা হয়। ঐ ভূয়া কবরে হুসায়েন رضى الله عنه এর রূহ হাযির হয় ধারণা করে তাকে সালাম করা হয়। তার সামনে মাথা ঝুকানো হয়। সেখানে সিজদা করা হয়, মনোবাঞ্ছা পূরণ করার জন্য প্রার্থনা করা হয়। মিথ্যা শোক প্রদর্শন করে বুক চাপড়ানো হয়, বুকের কাপড় ছিড়ে ফেলা হয়। ‘হায় হোসেন’ ‘হায় হোসেন’ বলে মাতম করা হয়। রক্তের নামে লাল রং ছিটানো হয়। রাস্তা-ঘাটে রং-বেরং সাজে সাজানো হয়। লাঠি-তীর-বল্লম নিয়ে যুদ্ধের মহড়া দেয়া হয়।
হুসায়েন رضى الله عنه এর নামে কেক ও পাউরুটি বানিয়ে ‘বরকতের পিঠা’ বলে বেশী দামে বিক্রি করা হয়। হুসায়েন رضى الله عنه এর নামে ‘মোরগ’ পুকুরে ছুঁড়ে ফেলে যুবক-যুবতীরা পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঐ ‘বরকতের মোরগ’ ধরার প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে।
সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল মিছিল করে কারবালা যুদ্ধের মহড়া দেয়। কালো পোষাক পরিধান বা কলো ব্যাজ ধারণ করা হয় ইত্যাদি। এমনকি অনেকে শোকের মাস ভেবে এই মাসে বিবাহ-শাদী করা অন্যায় মনে করে থাকেন। ঐদিন অনেকে পানি পান করা এমনকি শিশুর দুধ পান করানোও অন্যায় ভাবেন।
অপরদিকে উগ্র শীআরা কোন কোন ইমাম বাড়া’তে আয়েশা رضى الله عنه এর নামে বেঁধে রাখা একটি বকরীকে লাঠিপেটা করে ও অস্ত্রঘাতে রক্তাক্ত করে বদলা নেয় ও উল্লাসে ফেটে পড়ে। তাদের ধারণা মতে আয়েশা رضى الله عنه এর পরামর্শক্রমেই আবুবকর رضى الله عنه রাসূল ﷺ এর অসুখের সময় জামা’আতে ইমামতি করেছিলেন ও পরে খলিফা নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেকারণ আলী رضى الله عنه খলীফা হতে পারেননি(নাউযুবিল্লাহ)।
ওমর, ওসমান, মু’আবিয়া, মুগীরা বিন শো’বা رضى الله عنه প্রমুখ বিখ্যাত সাহাবীকে এ সময় বিভিন্নভাবে গালি দেয়া হয়। এছাড়াও রেডিও-টিভি, পত্র-পত্রিকা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একথা বুঝাতে চেষ্টা করে যে, আশূরায়ে মুহাররমের মূল বিষয় হল শাহাদাতে হুসায়েন رضى الله عنه বা কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা। চেষ্টা করা হয় হুসায়েন رضى الله عنه কে ‘মা’ছুম’ ও ইয়াযীদ ‘মাল’উন প্রমাণ করতে। অথচ প্রকৃত সত্য এসব থেকে অনেক দূরে।
আশূরা উপলক্ষ্যে প্রচলিত উপরোক্ত বিদ’আতী অনুষ্ঠানাদির কোন অস্তিত্ব এবং অশুদ্ধ আক্বীদা সমূহের কোন প্রমাণ সাহাবায়ে কেরামের যুগে পাওয়া যায় না। আল্লাহ ব্যতীত কাউকে সিজদা করা যেমন হারাম, তা’যিয়ার নামে ভূয়া কবর যিয়ারত করাও তেমনি মূর্তিপূজার শামিল। রাসূল ﷺ এরশাদ করেন,من زار قبرا بلا مقبور كانما عبد الصنم ‘যে ব্যক্তি লাশ ছাড়াই ভূয়া কবর যিয়ারত করল, সে যেন মূর্তি পূজা করল।-বায়হাক্বী, ত্বাবারাণী
এতদ্ব্যতীত কোনরূপ শোকগাথা বা মর্সিয়া অনুষ্ঠান বা শোক মিছিল ইসলামী শরী’আতের পরিপন্থী। কোন কবর বা সমাধিসৌধ, শহীদ মিনার বা স্মৃতি সৌধ, শিখা অনির্বাণ বা শিখা চিরন্তন ইত্যাদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করাও এই পর্যায়ে পড়ে।
অনুরূপভাবে সবচেয়ে বড় কবীরা গোনাহ হ’ল সাহাবায়ে কেরামকে গালি দেয়া। রাসূল ﷺ এরশাদ করেন,لا تسبوا اصحابى فلو ان احد كم انفق مثل احد ذهبا ما بلغ مد احدهم ولا نصيفه ‘তোমরা আমার সাহাবীগণকে গালি দিয়ো না। কেননা (তাঁরা এমন উচ্চ মর্যাদার অধিকারী যে,) তোমাদের কেউ যদি ওহোদ পাহাড় পরিমাণ সোনাও আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে, তবুও তাঁদের এক মুদ বা অর্ধ মুদ অর্থাৎ সিকি ছা বা তার অর্ধেক পরিমাণ (যব খরচ)- এর সমান সওয়াব পর্যন্ত পৌছতে পারবে না।-মুত্তাফাক্ব আলাইহ
শোকের নামে দিবস পালন করা, বুক চাপড়ানো ও মাতম করা ইসলামী রীতি নয়। রাসূল ﷺ এরশাদ করেন, ليس منا من ضرب الخدود وشق الجيوب ودعا بدعوى الجاهليه ‘ঐ ব্যক্তি আমাদের দলভূক্ত নয় , যে ব্যক্তি শোকে নিজ মুখে মারে, কাপড় ছিড়ে ও জাহেলী যুগের ন্যায় মাতম করে।-বুখারী ও মুসলিম
ঐসব শোক সভা ও শোক মিছিলে বাড়াবাড়ি করে সৃষ্টি ও সৃষ্টিকর্তার পার্থক্য মিটিয়ে দিয়ে হুসায়েন এর কবরে রূহের আগমন কল্পনা করা, সেখানে সিজদা করা, মাথা ঝুকানো, প্রার্থনা নিবেদন করা ইত্যাদি পরিষ্কারভাবে শিরক।
মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের হক্ব বুঝার এবং হক্বের উপর আমল করার তৌফিক দান করুন। আমীন
সংকলন ও পরিমার্জনে
মাহফুজুর রহমান
দাওয়াহ এন্ড রিসার্চ সেন্টার