পরিবারে একজন পুরুষের সবচেয়ে প্রিয় দুইটি নারী - মা আর স্ত্রীর মধ্যকার বিবাদের অনেকটাই চলে ভালবাসার দাবি তে। নতুন দম্পতিরা সত্যিই বুঝতে পারেন না, একে অপরকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে গিয়ে তারা আর সবার থেকে কতটা আলাদা হয়ে গেছেন। একটা ফ্রেন্ড সার্কেলে দুজন জুটি বেঁধে গেলে অন্যদের কেমন হিংসে হয় এটা একটু কল্পনা করলে বুঝতে পারবেন 'কাছের মানুষটা পর হয়ে গেছে' - এই উপলব্ধি পরিবারের অন্যদের কতটা কষ্ট দেয়।
মানি, নতুন দম্পতির পরস্পরকে জানা ও চেনা প্রয়োজন। কিন্তু তা কি আর সব কিছু থেকে নিজেকে আলাদা করে তারপর? দুটো গাছ একজন আরেকজনের উপর ভর করে বেড়ে উঠবে। তার জন্য কি শেকড়গুলি সব উপড়ে তবেই এক হতে হবে? লতাগুলো হয়ত পরস্পরের বাহুডোরে থেকে কিছুই টের পাবেনা। কিন্তু মাটির কান্না? মাটি সে শূন্যতা ভরবে কী দিয়ে? তিল তিল করে বুক চিরে যে আদরের ফসল এত বড় হয়েছে, তার উপস্থিতি ছাড়া মাটির ত আর কিছুই নেই! সে বাঁচবে কী নিয়ে? আমরা সহজে বলি, বাবা মায়েরা আমাদের যথেষ্ট 'স্পেস' দেয়না। সত্যি কথা কী, স্পেস দেয়ার জন্য মায়ার বাঁধন একটা একটা করে ছিঁড়ে রিক্ত শূন্য হয়ে, তবেই স্পেস তৈরি করা যায়। স্পেস মানে ত খালি জায়গা, তাই না? যে জায়গাটা বাবা মা মনোযোগ দিয়ে যত্ন দিয়ে ঘিরে রেখেছিল, স্পেস দেয়ার জন্য সেখান থেকে তাদের নিজেদের গুটিয়ে নিতে হবে, তাই ত?
গাছের উপমায় আবারো ফিরে আসি। শেকড় আর লতানো বাহু - দুটোর টানই তীব্র। দুটোর জন্যই তার আকর্ষণ অসীম। মমতাময়ী মা যেভাবে খাবার জন্য পীড়াপীড়ি করত, অসুখ হলে অস্থির হত - ওই আনন্দগুলি ত অন্যরকম! অমনি করে ভালবাসা পাওয়ার ইচ্ছে ত কোনদিন মরে না। আর স্ত্রী? তার জন্য একটা পুরুষ জীবন দিতে পারে। তার যা আছে সবকিছু বিনিয়োগ করতে পারে। ভুল হয়ে যায় তখনই, যখন ভালবাসায় অবুঝ হয়ে এই মানুষগুলো তাদের আপন আপন গন্ডি ছেড়ে আরও অনেকটা দখল করে নিতে চায়। তাই পুরুষটিকে হতে হবে খুবই সচেতন। মা যেন কখনও না ভাবে ছেলেটা বদলে গেছে। আগের মত করে সময় দিতে না পারলেও আদুরে গলায় 'মা তোমার ঐ রান্নাটা অনেকদিন খাইনা', বা 'মা আমার মাথায় একটু হাত রাখ' - এ ধরণের কথা বলে ছোট ছেলেটা হয়ে গেলে মায়ের অনেক দুঃখ দূর হয়ে যাবে।
মায়ের বয়স হয়েছে, তিনি চান বউ সংসারের দায়িত্ব নিক, কিন্তু এত যত্নে গড়ে তোলা সিস্টেম একটা আনাড়ি মেয়ের হাতে তুলে দেয়ার আগে তিনি চাইবেন মেয়েটাকে তার সিস্টেমে অভ্যস্ত করিয়ে নিতে। কিন্তু সুপারভাইজিং, ট্রেনিং বেশ কঠিন কাজ। অনেক ধৈর্য আর সহনশীলতা দরকার হয়। বিভিন্ন কারণে গুরুজনেরা এই বয়সে অনেক সময় বুঝতেও পারেন না কোন কথাটায় কতটুকু কষ্ট পেতে পারে ছেলেমেয়েরা। এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে সেনসিটিভিটি এর মাত্রা বদলায়। যুক্তি দিয়ে সরাসরি ভুল ধরাটা আমাদের প্রজন্মে কমন, উনারা হয়ত খুবই আহত হন। আবার স্বভাব চরিত্র নিয়ে একটু খোঁচা মেরে কথা বলাটা উনাদের কাছে হয়ত নিছক রসিকতা, আমরা ভীষণ অফেন্ডেড হই।
যাই হোক, নতুন বউয়ের এ ধরণের আচরণে কষ্ট লাগবে। স্বভাবতই সে সবার আগে স্বামীকে খুলে বলবে। স্বামীর দায়িত্ব এখানে রিঅ্যাক্ট না করে পুরোটা শোনা, মা যদি অন্যায় করে থাকে তাহলে অকপটে স্বীকার করা, তারপর মায়ের দোষগুলোর পিছনে ওনার ভাল নিয়ত টুকু দেখানোর চেষ্টা করা, বা বুঝিয়ে বলা যে এটা জেনারেশন গ্যাপ ইত্যাদি। এতে দুটো সুবিধা আছে। স্ত্রী বুঝবে এটা একটা সমস্যা, আর তা সমাধান করার জন্য সে একা নয়, আরেকটি সহানুভূতিশীল মন তার পাশে আছে। মায়ের দোষ ছেলে স্বীকার করলে স্ত্রী তখন ব্যাপারটাকে একটা সমস্যা হিসেবেই দেখবে, অন্যায় হিসেবে না। এতে করে সমস্যার সমাধান না হোক, সমস্যাটা আপনাদের মধ্যকার বন্ধন আরো দৃঢ় করতেই সাহায্য করবে।
আবার এদিকে মা খুবই কষ্ট পাবেন যদি ছেলে এসে তার দোষ ধরিয়ে দেয় বা বউয়ের দোহাই দেয়। আগে থেকে বাবা মা সমালোচনা গ্রহণ করতে অভ্যস্ত না হলে বিয়ের পরে সে চেষ্টা করতে যাবেন না। বরং এভাবে শুরু করতে পারেন, 'কী মা, তোমার বউ নাকি এটা এটা করেছে!' মায়ের প্রতি আপনার আবেগ যেন প্রকাশ পায়, বউয়ের নাম ধরে না বলে 'তোমার বউ' বলার মাধ্যমে তাদের দুজনের সম্পর্কের উপর জোর দিন (নিজেকে আড়াল করে), এটা করেছে - বলার মাধ্যমে হালকা একটা দোষারোপের ভঙ্গি করুন। এতে করে মায়ের মনে 'ছেলে আমার কথা শুনবে না' এই ধরণের ডিফেন্সিভ ভাবটা থাকবেনা। উনি মন খুলে কথা বলতে পারবেন। আপনি আন্তরিকভাবে শুনলেই উনার মনটা অনেক শান্ত হয়ে যাবে। সমস্যা যদি ঘরের কাজ সংক্রান্ত হয় তাহলে কাজটা আপনি শুরু করুন, স্ত্রীকে আগে থেকেই রাজি করিয়ে রাখবেন যাতে সেও জয়েন করে।
বউ শাশুড়ি ঘটিত সমস্যা ত আর হাদীস এ নেই, কিন্তু তার সূত্রপাত যেখানে, ভালবাসা জনিত ঈর্ষা, তার উদাহরণ কিন্তু ঠিকই আছে। আয়িশা (রা) এর ঘরে মেহমানদের জন্য রাসুলুল্লাহ (স) এর অপর স্ত্রী খাবার পাঠিয়েছিলেন। আয়িশা (রা) রাগে খাবার সহ বাটি মাটিতে ফেলে দেন। কী অস্বস্তিকর অবস্থা! রাসুলুল্লাহ (স) করলেন কী, 'তোমাদের মা ঈর্ষায় পড়েছেন' বলে নিজেই ভাঙা টুকরাগুলো মাটি থেকে তুলতে লাগলেন। মেহমানদের সামনে অপমান করা হয়েছে মনে করে রাগ করলেন না, শাস্তি দিলেন না, মেহমানদের কাছে বললেন 'তোমাদের মা'; আবার অপর স্ত্রীর বাটি ভেঙে তার উপর অন্যায় করা হয়েছে, এ জন্য আয়িশা (রা) এর ঘর থেকে একটা বাটি নিয়ে উনাকে ফেরত দিলেন।
কে ঠিক আর কে বেঠিক সে বিচার করতে যাবেন না ভুলেও। দুজনেই অবুঝ, দুজনেই আপনাকে খুব ভালবাসে, দুজনেই চায় আপনার ঘরটাকে সুখ দিয়ে ভরিয়ে তুলতে। আপনার কাজ শান্তিপূর্ণ মধ্যস্থতা করা। শেকড় থেকে জীবনীশক্তি আর সঙ্গী গাছের থেকে দৃঢ়তা পেলে একটি গাছ ফুলে ফলে ছায়ায় কত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারবে চিন্তা করে দেখেছেন?
নঈম এর পিতা লিখেছেন : অসাধারন বিশ্লেষন। আপনি কি পোড় খাওয়া, নাকি পুরোটাই ভার্চুয়াল।
কীবোর্ড
Bijoy UniJoyPhoneticEnglish
নাম:
মন্তব্য:
তথ্য পাঠানো হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন
১৬ সেপ্টেম্বর ২০১১; সকাল ১০:৫২
397221
নূসরাত রহমান লিখেছেন :
আমি বিবাহের ষষ্ঠ দিনেই প্রবাসী হইয়াছি।
২
427648
১৬ সেপ্টেম্বর ২০১১; সকাল ১০:২০
গরিব মানুষ লিখেছেন : বউ শাশুড়ি ঘটিত সমস্যার পিছনে মেইন ইন্দনদাতা হল শয়তান ।
সারাদিন তার ওয়াসওয়াসা চালিয়ে যায় শুধু বউ শাশুড়ির মনে হিংসা, বিদ্বেষ আরা ভুল বুঝা বুঝি সৃষ্টি করার জন্য ।অথচ এই ওয়াসওয়াসা তারা/ আমারা অনুভাব কেউ করতে পারি না ।
আসলে আমারা/তারা/সবাই শয়তানের ধোঁকার স্বীকার ।
জাযাক'আল্লাহ খায়ের ।
১০১ টা প্লাস ।
কীবোর্ড
Bijoy UniJoyPhoneticEnglish
নাম:
মন্তব্য:
তথ্য পাঠানো হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন
১৭ সেপ্টেম্বর ২০১১; দুপুর ১২:৪০
398729
নূসরাত রহমান লিখেছেন : কথা সত্য। সবার ভেতর এ সমস্যা নিয়ে সচেতনতা তৈরির চেষ্টায় আছি।
মন দিয়ে পড়লাম, বোঝার চেষ্টা করলাম। অতপর মস্তকে তুলে রাখলাম।
কীবোর্ড
Bijoy UniJoyPhoneticEnglish
নাম:
মন্তব্য:
তথ্য পাঠানো হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন
৫
427714
১৬ সেপ্টেম্বর ২০১১; সকাল ১১:০৪
স্বপ্নচারী লিখেছেন : ইগুলান সব স্টোর হাউসে জমা হইতেছে। এখন পড়লে মন উদাস হয়, অনেকটা ছেলেবেলার অংক বইতে একজাম্পল করার পর অনুশীলনী করার আগ্রহের মতন
আপাতত লেসন বা এক্সারসাইজ দুই-ই হাতের বাইরে। আর এই লেখা যে পড়ি নাই তা না, কিন্তু কমেন্ট করিতে গেলে চিন্তা করতে হবে আরেকদফা, সেই চিন্তাকে গোড়া থেকে বন্ধ করিয়া রাখিয়াছি
স্বপ্নচারী লিখেছেন : আপুমনি, আপনার অভিবাদনে আমি মাত্রাতিরিক্ত মুগ্ধ। কিন্তু আসলে এর নাম ফিরে আসা নয়। এর নাম উঁকি দেয়া। জীবনের ক্ষত অনেক, সেগুলো না সারলে ফিরে আসা উচিত না, ইচ্ছাও নেই
মাহমুদুল হক লিখেছেন : অনেক ধন্যবাদ ।পড়ে খুব ভালো লাগলো। দাম্পত্য জীবন সূখী রাখতে অনেকের কাজে লাগবে ।
কীবোর্ড
Bijoy UniJoyPhoneticEnglish
নাম:
মন্তব্য:
তথ্য পাঠানো হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন
৯
428408
১৬ সেপ্টেম্বর ২০১১; রাত ০৮:৫৭
রেহনুমা বিনত আনিস লিখেছেন : আপনার যা বয়স তাতে শ্বাশুড়ী হবার তো কথা না
পুরো লেখাটাই শ্বাশুড়ী পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে লেখা মনে হোল, যদি আমি ভুল না করে থাকি। আমি অসংখ্য বৌ দেখেছি যারা চরম স্যাক্রিফাইস করেও মাকে বোঝাতে পারেন না যে তার অথরিটিতে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন ঘটেনি, নিজেকে শামুকের মত গুটিয়ে রেখেও নন থ্রেটেনিং প্রমাণ করতে পারেননা। সুতরাং, বাবামাকে গুরুত্ব দেয়াটাই মনে হয় সমাধান নয়। বরং স্পেস দেয়ার ব্যাপারটা আপনি যেভাবে দেখালেন ঠিক তেমন নয়, চিনির বয়মে আরেকটু চিনি ভরার জন্য বয়মটা একটু ঝাঁকি দিয়ে জায়গা করে নেয়ার মত মনে হয়। সবাইকেই পরস্পরের জন্য জায়গা করে দেবার মানসিকতা রাখতে হবে।
আমার এক বান্ধবী সবসময় বলত ওর শ্বাশুড়ী সবচেয়ে ভালো, উনি কখনো ওকে কোন কোন কষ্ট দেননি। ভুক্তভোগীরা মুখ টিপে হাসত, কারণ ওর শাশুড়ী ওর বিয়ের আগেই মারা গেছেন।
মহিলা বা পুরুষ সে যেই হোক, আরেকজনকে অ্যাকমডেট করার মানসিকতা না থাকলে এসব সমস্যা চলতেই থাকবে মধ্যস্থ ব্যাক্তিটি যে পরিকল্পনাই হাতে নিন না কেন
কীবোর্ড
Bijoy UniJoyPhoneticEnglish
নাম:
মন্তব্য:
তথ্য পাঠানো হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন
১৬ সেপ্টেম্বর ২০১১; রাত ০৯:১০
397911
মনের কথা ২০১১ লিখেছেন : মহিলা বা পুরুষ সে যেই হোক, আরেকজনকে অ্যাকমডেট করার মানসিকতা না থাকলে এসব সমস্যা চলতেই থাকবে মধ্যস্থ ব্যাক্তিটি যে পরিকল্পনাই হাতে নিন না কেন । তবে বাজারে একটা কথা শুনা যায় মেয়েরা মেয়েদের প্রধান শত্রু, পুরুষ পরে। এ সম্পর্কে আপনার সুচিন্তিত মতামত আশা করছি।
''রেহনুমা বিনত আনিস লিখেছেন : আপনার যা বয়স তাতে শ্বাশুড়ী হবার তো কথা না
পুরো লেখাটাই শ্বাশুড়ী পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে লেখা মনে হোল, যদি আমি ভুল না করে থাকি।''
১৬ সেপ্টেম্বর ২০১১; রাত ০৯:১৮
397928
রেইন স্পট লিখেছেন : লেখাটা খুব ভাল লেগেছে নুসরাত আপু।
আর রেহনুমাপুর কমেন্ট টাও অসাধারণ লেগেছে। আমি এখনও সংসারের জটিলতা বুঝিনা। আপনাদের লেখা পড়েই কিছুটা হলেও ট্রেইনড হচ্ছি।
১৬ সেপ্টেম্বর ২০১১; রাত ০৯:৩১
397938
রেহনুমা বিনত আনিস লিখেছেন : পুরুষদের প্রতিহিংসাপরায়নতার কাছে তো মহিলারা নস্যি! বিশ্বাস না হয় Wuthering Heights এর Heathcliff এর কীর্তিকলাপ পড়ুন (বাস্তবে কারো কথা বলে গীবতের গুনাহ অর্জন করতে ইন্টারেস্টেড না)।
মহিলারা দুর্বল বলেই হয়ত আরেক মহিলার ওপর হাত সাফাই করে দুর্নাম কামায়
তবে মহিলারা যে পরস্পরের খুব খুব খুব ভালো বন্ধু হতে পারে তার অসংখ্য উদাহরণ আপনার আশেপাশেই পাবেন। আমাদের ব্লগার বোনদের সম্পর্কই দেখুন না
১৬ সেপ্টেম্বর ২০১১; রাত ০৯:৪৮
397962
মনের কথা ২০১১ লিখেছেন : বেশি যাবার দরকার আছে কি? আমাদের পরিবারের বউ -শাশুড়ি সম্পর্ক কি বলে ? ব্যতিক্রম সব জাগাতেই আছে। আমাদের জাতীয় দুই নেত্রীর কথা নাই বললাম। ধন্যবাদ।
১৭ সেপ্টেম্বর ২০১১; দুপুর ১২:৫৪
398748
নূসরাত রহমান লিখেছেন : রেহনুমা আপু, আপনি অনেক দেখেছেন, আপনার পর্যবেক্ষণ আর বিচারশক্তির উপর আমার আস্থা অসীম। একটা কথা বলুন ত, আপনি যেমন শাশুড়ির উদাহরণ দিলেন, তার ব্যতিক্রম ও কি নেই? আপনি আমি যখন শাশুড়ি হব, আমরা কি বুক ফুলিয়ে বলতে পারি আমাদের কোন সমস্যা হবে না? যদি হয়, তখন কি আমরা চাইব না, আমার ছেলের বউয়ের প্রজন্মের কেউ একজন আমার দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাপারটা দেখুক? আমাকে আরেকটু বেশি বোঝার চেষ্টা করুক?
আপনার কাহিনীটা আপু খুবই খারাপ শুনিয়েছে কানে, এর অর্থ কি এই, শাশুড়ি জীবিত থাকলে কষ্ট দিবেই? আর এটাই সবসময় সত্যি? আমি নিশ্চিত আমাদের দেশে এমন শাশুড়িও আছেন যিনি মনে প্রাণে চান ছেলে ছেলের বউ সুখে থাকুক। যে মানুষটার নিয়্যত ভাল তাকে ত আপু দোষী করা উচিৎ না, তাকে সংশোধন করা উচিৎ। আর যদি আপনার অভিজ্ঞতা বলে এর কোন শেষ নেই, তবে আপু আমি দোয়া করি আমার যেন কোন ছেলে না হয়।
১৮ সেপ্টেম্বর ২০১১; দুপুর ১২:৪৪
400278
রেহনুমা বিনত আনিস লিখেছেন : আমি দুয়া করি আমাদের যেন ছেলেও হয় এবং আল্লাহ যেন আমাদের ভালো শ্বাশুড়ীর উদাহরণ হবার তাওফীক দেন যেন শ্বাশুড়ী কষ্ট দেবেই এই ধারণা সমাজ থেকে বিলীন হয় যায়।
১০
428484
১৬ সেপ্টেম্বর ২০১১; রাত ০৯:৪৭
রাইশা লিখেছেন : মেয়েরা বন্ধু হবে না শত্রু হবে তা অনেকটাই বাসার পুরুষটার উপর ডিপেন্ড করে। ওরা যদি ব্যালেন্সড হয় তাহলে সমস্যাটা গেড়ে বসেনা।
আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে খারাপ উপদেশ হল বউকে বলা মাকে নিজের মা মনে করা আর মা কে বলা বউকে নিজের মেয়ে মনে করা। আল্লাহও তাই রক্ত সম্পর্ককে সবসময় আলাদা রাখতে বলেছেন।
কীবোর্ড
Bijoy UniJoyPhoneticEnglish
নাম:
মন্তব্য:
তথ্য পাঠানো হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন
১৭ সেপ্টেম্বর ২০১১; দুপুর ০১:০২
398755
নূসরাত রহমান লিখেছেন : একমত। পুরোটুকু একমত। একবার একটা কাগজে দেখেছিলাম দুটো সার্কেল একটা রেখা দিয়ে যোগ করা। স্বামী আর স্ত্রী। তাদের থেকে আরো দুটো রেখা বের হয়ে একটা করে সার্কেল এর সাথে যোগ করা। ওখানে লেখা বাবা-মা। তারপর ব্যাখ্যা করেছে একটা ছেলে বা মেয়ের ইমিডিয়েট রেসপন্সিবিলিটি তার স্বামী/স্ত্রীর প্রতি আর তার নিজের বাবা মায়ের প্রতি। শ্বশুর শাশুড়ির প্রতি দায়িত্ব ভালবাসা এগুলো ছেলে মেয়ের জন্য সমান প্লাস এগুলো সবই সেকেন্ডারি লেভেলের কর্তব্য। লেখাটার অথেন্টিসিটি জানিনা, মনে ধরেছে।
সন্ধ্যাবাতি লিখেছেন : আমাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয় আমার রোল মডেল কে, জীবিত মানুষদের মধ্যে আমি কয়েকজনের কথা ভাবতে পারি, তাদের মধ্যে একজন আমার শ্বাশুড়ী।
আমার শ্বাশুড়ীর তিন ছেলে, তাদের তিন বউ। এই তিন বউকে আপনি আলাদা আলাদা করে জিজ্ঞাসা করলে প্রত্যেকেই শ্বাশুড়ীর প্রশংসা করবে। আমি আমার শ্বাশুড়ীর সাথে এক টানা একবার দুই মাস থেকেছিলাম, এছাড়া ফোনে কথা হয় প্রতি দ্বিতীয় দিন, আর যখন তখন থেকেছি কয়েক সপ্তাহ করে। কিন্তু অন্য দুই বউ আমার চেয়ে আরও অনেক বেশি সময় কাটিয়েছে আমার শ্বাশুড়ীর সাথে। একজন এখনও থাকে আম্মুর সাথে। হলফ করে বলতে পারি, এদের প্রত্যেকে আড়ালেও আম্মু সম্পর্কে কেবল ভালো কথা বলে, খারাপ কিছু বলে না। তাই বলে যে শ্বাশুড়ী আর বউদের সব কিছু একে অপরের মন মত হয়, তা কিন্তু না! কিন্তু দুই পক্ষই অন্য পক্ষকে স্পেইস দেয়া শিখেছে। আম্মু কখনও আমাদের সম্পর্কে মুখোমুখি বা আড়ালে অনুযোগ করেন না। কখনই না। (কিন্তু কিছু অপছন্দ হলে আমরা বুঝতে পারি)। অনেক প্রশংসা করতে পারেন। আমাদের নিজেদের মা বাবার কাছে আমাদের নামে প্রশংসা করেন, আমাদের জামাইদের কাছে আমাদের নামে প্রশংসা করেন, বাইরের মানুষের কাছে আমাদের নামে প্রশংসা করেন। খুব ছোটখাট কিছুতেই অনেক খুশি হয়ে যান। আমার জামাই ফোন করলে এত আদর করে জিজ্ঞাসা করেন, 'সন্ধ্যা (এখানে আমার আসল নাম হবে!) বুড়ি/ সন্ধ্যা মনি কই আছে? কি করে?', যে নিজের খালাদের থেকে আলাদা করতে পারি না। বাংলাদেশের আর কোন শ্বাশুড়ী নিজের ছেলের বউকে 'বুড়ি/মনি' বলে আদর করেন? তাঁর সবগুলো ছেলেই কিন্তু প্রচন্ড মা-ভক্ত। এজন্য আমরা বিদেশ থেকে গেলে প্রথম কয়েক দিন খুব মজার একটা কান্ড হয়। ছেলে মাঝখানে শোয়, এক পাশে মা, অন্য পাশে বউ! মা-ভক্ত ছেলেগুলো কিন্তু বউ-ভক্তও! কিন্তু মা ভক্তা আর বউ-ভক্ত দুইটা এক সাথে হতে হলে ছেলেটারও মা আর বউয়ের মধ্যে হারমনি দেখতে হয়। এই হারমনিটা মা বউ দুইজন মিলে তৈরি করতে পারে।
আম্মু আমাদের সবটুকু অধিকার দিয়ে দেন দুই হাত ভরে, আরও বেশি বেশি দিতে চান। কেউ এত দিলে উল্টা স্বার্থপর হওয়া যায় না, আমাদেরও তাই দিতে ইচ্ছা করে। ও আচ্ছা, আমার শ্বাশুড়ী সব সময় তাঁর নিজের শ্বাশুড়ীর প্রশংসা করেন। কত আদর করে আগলে রাখতেন সে কথা বলেন। কিন্তু একই শ্বাশুড়ীর কাছে থাকা সব বউ কিন্তু আবার শ্বাশুড়ী হিসেবে এমন অসাধারন হন নি, বরং অন্যদের শুনি শ্বাশুড়ি সম্পর্কে অনুযোগ করতে। তাই শুধু শ্বাশুড়ির দোষ দিয়ে আসলে পার পাওয়ার উপায় নেই।
রেহনুমা আপুর বর্নিত বাস্তবতার চেয়ে ভিন্ন বাস্তবতা আমি দেখেছি আমার জীবনেই আলহামদুলিল্লাহ। এর একটা ছোট্ট সিক্রেট আছে অবশ্য। বিয়ের আগে আমি দোআ করতাম আমার শ্বাশুড়ীটা যেন ভালো হয়
কীবোর্ড
Bijoy UniJoyPhoneticEnglish
নাম:
মন্তব্য:
তথ্য পাঠানো হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন
২৩ জানুয়ারী ২০১২; রাত ০৩:৫৮
609081
নূসরাত রহমান লিখেছেন : এই মন্তব্যটা প্রিন্ট করে আমার পরিচিত নতুন শাশুড়ীদের পাঠাব।
১৩
615280
২০ জানুয়ারী ২০১২; সকাল ০৭:৩৩
সন্ধ্যাবাতি লিখেছেন : ৫, ৬ লম্বর পোস্ট আমার পরিচিত অসহায় ছেলে (প্লাস জামাই) দের কাছে বিলি করছি! দারুণ লিখেছেন!
>