
কয়েক হাজার কিলোমিটারের বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত নিয়ন্ত্রন করা কি খুব সহজ?
ফেলানীর মৃত্যু কখনো কাম্য ছিল না, তার মৃত্যুতে সবাই মর্মাহত। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী অবশ্যই একটি চরম অন্যায় কাজ করেছে। কিন্তু এই অকাল মৃত্যুকে পুজি করে কিছু সুযোগ সন্ধানী মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে নেমেছে, রাজনীতি করছেন। ভারত আমাদের প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্র। একাত্তরে তাদের সাহায্য ছাড়া আমাদের নয় মাসে স্বাধীনতা কল্পনাই করতে পারতাম না। তারাই আশ্রেয় দিয়েছিল আমাদের প্রায় দেড় কোটির বেশী সরনার্থীদের। কয়েকদিন থেকে কিশোরী ফেলানী ইস্যুটাকে রঙ চং লাগিয়ে ভারত বিরোধীতার সেই পুরোনো ভাজ্ঞা চোজ্ঞা বাজানো হচ্ছে। আসুন আমরা আবেগ ঝেড়ে ফেলে বাস্তবতার আলোকে, ঠান্ডা মাথায় সীমান্তে মানুষ হত্যাকান্ডগুলো বিশ্লেষণ করি-----
১। বাংলাদেশের সব পত্রিকায় লিখেছে ফেলানীর পরিবার অবৈধ ভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিল জীবিকার সন্ধানে। তারা অন্যদেশে অবৈধ্যভাবে অনুপ্রবেশ করেছিল কেন? কাজের সন্ধানে। আমরা কাজ দিতে পারিনি তাই তারা সেখানে গেছে। হাজারো ফেলানী পরিবার প্রতিদিন অবৈধ ভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করে কাজ, চোরাচালান, মাদক চালান, অস্ত্র চালান এবং বিভিন্ন অসামাজিক উদ্দেশ্য নিয়ে।এতে ভারতের সমস্যা হতেই পারে।
২। ভারত আলাদা রাষ্ট্র, তাদের আলাদা নিয়ম কানুন আছে। এমনিতেই তারা নানা সন্ত্রাসবাদের স্বীকার, তাই সীমান্তে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করে। একদিকে পাকিস্থান সীমান্ত, অন্য দিকে বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে প্রতিনিয়ত জজ্ঞিরা ওতপেতে আছে ভারতের ঢুকার জন্য। ঢুকছেও নিয়মিত। সেক্ষেত্রে তারা নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে অন্য দেশের অবৈধ নাগরিককে যদি না ঢুকতে দেয় তাহলে, আমরা কি করতে পারি? বাংলাদেশ সরকারেই বা এর প্রতিবাদ করার কি আছে? আর জোর করে ঢুকতে গিয়ে যদি দু চার টা মারা যায় সেখানে দোষটা কার? যে অবৈধ অনুপ্রবেশ করলো তার, নাকি যে বৈধভাবে ঠেকালো তার?
দেখুন সীমান্ত দিয়ে সন্ত্রাসীরা কিভাবে ভারতে ঢুকছে, Click this link...
৩। আমরা কি প্রতিনিয়ত হাজারো ফেলানীদের ভারত যাওয়া ঠেকেতে পারছি? পারছি না কেন? সীমান্তে কাজ নেই, মজ্ঞা পীড়িত। আমরা তাদের জন্য কি করছি?
ফেলানীর দুর্ভাগ্যজনক হত্যাকান্ডকে পুজি করে যারা নিকটতম প্রতিবেশীর সাথে সম্পর্ক খারাপ করার চেষ্টা করছে, তাদের বলি, ফেলানীদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নের জন্য আপনারা কি কি উদ্দ্যোগ নিয়েছিলেন? তাদের কাজ থাকলে তো আজ অবৈধভাবে ভারত যেতে হতো না, মরতেও হতো না।
৪। বলা হচ্ছে, বিএসএফ হত্যা না করে ফেলানীদের গ্রেফতার করলেই তো পারত। হা পারতো, উচিতও ছিল। কিন্তু মনে রাখা দরকার, ভারতের সাথে আমাদের বিশাল সীমান্ত। প্রতিনিয়ত হাজারো মানুষ অবৈধভাবে যাতায়াত করছে, সেখানে এরকম দুচারটা ঘটনা অনাকাজ্ঞিত হলেও অপ্রত্যাশিত কি?
৫। ভারত সীমান্তে কাটাতারের বেড়া দিচ্ছে। আমার জানা মতে পৃথিবীর অনেক দেশের সীমান্তেই কাটা তাদের বেড়া আছে। পাকিস্থান-ভারত সীমান্তে আছে, আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্তে আছে। এমনকি বার্মা-বাংলাদেশ সীমান্তও আছে। দুনিয়ার এসব খবর না জেনে আমরা লাফালাফি করছি কেন? শুধু ভারত বিরোধীতার খাতিরে বিরোধীতা? গ্লোবাল ভিলেযে এই ভারত বিরোধী জিগির আর কত দিন?
৬। সীমান্ত হত্যা বিষয়টি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে মিমাংসা না করে, ভারতীয় পন্য বর্জন, চ্যানেল বর্জন, এমনি কেউ কেউ ভারত সীমান্ত আক্রমনের গুমকি দিচ্ছে। যারা ভারতীয় পন্যে বর্জনের হুমকি দিচ্ছেন, তারা জানেন না সীমান্ত দিয়ে নিয়মিত বৈধ/অবৈধভাবে ভারতীয় পন্য না আসলে বাংলাদেশের নিত্যপ্রযোজনীয় জিনিসের দাম কত হতো? আর ভারতীয় চ্যানেলের সিরিয়াল না দেখলে কার ঘুম আসে না? বিএনপির নেতারা আর্মি ষ্টেডিয়ামে ভারতীয় শিল্পীর কনসার্ট করছে। সেই কনসার্টে ডিজিটাল জামাত-শিবিরের ছেলে মেয়েরাও জয়েন করছে, আবার তারাই ভারতীয় শিল্পী, চ্যানেল বর্জনের হুমকী দিচ্ছে। কি বৈপরিত্য!!!
৭। সর্বশেষ কিছু ডিজিটাল জিহাদী গুমকি দিচ্ছে, দরকার হলে এরা নাকি ভারত সীমান্তও আক্রমন করবে। এদের মনে রাখা দরকার, এদের পুর্ব পুরুষ নিজামী-মুজাহিদ একাত্তরে পাকি সেনাদের মদতে ভারত দখল করে দিল্লী জামে মসজিদে নামাজ পড়ার হুমকিও দিয়েছিল, তার পরিনতি কি হয়েছিল, নিশ্চয় সবার জানা। আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পরিনতিও সবার জানা। সুতরাং জিহাদী জজবা না দেখিয়ে বাস্তবতার আলোকে পথ চলতে হবে। ভারত পরাশক্তি হতে যাচ্ছে, আমরা অনেক কিছুর জন্য তাদের উপর নির্ভরশীল। অবৈধ ভাবে আন্যের দেশে প্রবেশ করবেন আবার জেহাদের ডাক দিবেন। ইন্টারেষ্টিং । সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে হলে আমাদের সীমান্তে অনুপ্রেবেশ আমাদেরই বন্ধ করতে হবে, মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নত করতে হবে। সাথে বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের সাথে মিলে মিশে থাকতে হবে। পানি ঘোলা না করে বরং বাংলাদেশীদের আবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করেন। অনুপ্রবেশ বন্ধ হলে বিএসএফ-এর গুলি বন্ধ হবে।
আমরা কি ইচ্ছে করলেই আমাদের সীমান্ত পাকিস্থান বা চীনের সাথে করতে পারব?
পারব না। সেহেতু পারব না সেহেতু ভারতের সাথে মিলে মিশেই থাকাই উত্তম।
ধন্যবাদ লেখার জন্য। কয়েকদিন থেকে এক পাশের যুক্তি পড়ছিলাম, আজ কিছু অন্য যুক্তিও পেলাম।
০০০০ না আমি তা বলছি না।
কয়েকদিন থেকে এক পাশের যুক্তি পড়ছিলাম, আজ কিছু অন্য যুক্তিও পেলাম।
০০০ ধন্যবাদ। সত্য বলার সাহস আমাদের থাকতে। ভারত বিরোধীতা নয় বাস্তবতার আলোকে বিষয়টা দেখুন
সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত রাজাকার-
১. রোদেলা
২. দুষ্টুমেয়ে
৩. পলাশ৭৫
৪. আজাদ
৪. দেশীপোলা
৫. প্রবাহ
চলবে...
http://www.sonarbangladesh.com/blog/akmall/22712